Saturday, November 2, 2019

অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে অনড় বাগেরহাট মহিলা কলেজ শিক্ষার্থীরা

অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো শনিবার (০২ নভেম্বর) ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করেছেন বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।


দুপুরে কলেজ চত্বরে মিছিল করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করলে রোববার থেকে রাজপথে মিছিল করার হুমকি দেন। আর অধ্যক্ষ বলছেন, পদত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

এদিকে, কলেজের চলমান সংকট নিরসনে শনিবার সাড়ে ১১টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকেন অধ্যক্ষ ড. এসএম রফিকুল ইসলাম। সভায় কোনো শিক্ষক অংশগ্রহণ করেননি।

 এ সময় অধ্যক্ষের দাবি, শিক্ষকরা সভায় অংশগ্রহণ না করে, অনুমতি ছাড়াই কলেজ থেকে বের হয়ে গেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা যেকোনো মূল্যে অধ্যক্ষের পদত্যাগ চাই। তিনি এখানে থাকলে আমাদের লেখাপড়া হবে না। আমরা ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব না। রোববার যদি অধ্যক্ষ স্যার কলেজে থাকেন তাহলে আমরা তার অপসারণের দাবিতে রাজপথে মিছিল করব।

মিম, শুকরিয়া, তিথি ও সাদিয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার আন্দোলনের পরে স্যার তার অবস্থান থেকে একটুও নড়েননি। বরং হোস্টেলের মেয়েদের আন্দোলনে আসতে দিচ্ছেন না। আন্দোলনে আসলে তাদের হোস্টেল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি এই আন্দোলন নস্যাৎ করতে অধ্যক্ষের তরফ থেকে হোস্টেলের মেয়েদের খাওয়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।


অধ্যক্ষ ড. এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্বে কাল্পনিক কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আমার পরিবারকে জড়িয়ে নানা অপ্রচার করছেন কতিপয় কিছু শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের আমার কোনো কথা শুনতে দেয়া হচ্ছে না। কলেজের চলমান সংকট নিরসনে শনিবার সাড়ে ১১টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকেছিলাম। কোনো শিক্ষক সভায় অংশগ্রহণ করেন নি। বরং সকল শিক্ষকরা আমাকে না বলে কলেজের বাইরে চলে গেছেন। আমি চাই কলেজের চলমান সংকট নিরসন হোক। এজন্য ইতোমধ্যে আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।

রোববার থেকে যদি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে না আসেন, তাহলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো, মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মানুয়ায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব বলে জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক সাহানুর আক্তারকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ব্যস্ত বলে ফোন কেটে দেন। পরে আর তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এছাড়া কলেজের উপাধ্যক্ষ ঝর্ণা হালদারসহ কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তারা কলেজের সংকটের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

উল্লেখ, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার (৩০ অক্টোবর) বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. এস এম রফিকুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থণ জানিয়ে ৭২ ঘণ্টা মধ্যে তার অপসারণ না হলে কলেজের সকল কার্যক্রম, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা, বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা হতে বিরত থাকার ঘোষণা দেন শিক্ষকরা।

 

Tuesday, July 23, 2019

নিহত রেনুকে নিয়ে তার ভাইয়ের ফেজবুক স্ট্যাটাস

নিহতের ভাই রিয়াজ মাহমুদের ফেজবুক স্টাটাসটি হুবহু দেয়া হলো-







'আমার বোন আমার চেয়ে বয়সে দশ বছরের ছোট হবে। রেনু ওর নাম। গতকাল গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে ওর। ছোট বেলা হতে কিছুটা নার্ভাস প্রকৃতির রেনু ছিল খুব মেধাবী। স্কুলে কখনও দ্বিতীয় হয়নি। সব সময় ফার্স্ট গার্ল। বাবা রেনুকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন সে ডাক্তার হবে নয়তো সরকারি বিসিএস কর্মকর্তা। কিন্তু ‍সংসার জীবনটা রেনুর সুখের হয়নি। ছোট ছোট দুটি সন্তান নিয়ে সে একাই জীবন অতিবাহিত করছিল।

সংসার ভেঙে গেছে বেশ আগেই। বাবা ও মা মারা গিয়েছেন। রেনু নিজের মতো করেই সন্তানদের ভাল স্টুডেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। ছোট বাচ্চাটার মাত্র চার বছর বয়স। মৃত্যুর আগের রাতে কিছুটা অস্থির দেখাচ্ছিল রেনুকে। ছোট বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করার জন সকালে স্কুলে যাবে। সকাল হলে বাসার কাছে প্রাইমারি স্কুলটায় ভর্তির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই অপরিচিত দুটি বখাটে ছেলে তাকে অহেতুক প্রশ্ন করতে শুরু করলে সে নার্ভাস হয়ে যায়। রেনুর বেশ মানসিক অস্বস্তি হয় এধরনের জেরায়। সে গুছিয়ে কথা বলতে পারে না। তার মত সাধারণ মেয়ে সারাজীবনে চাকরি সংসার সমাজ ইত্যাকার বর্হিমুখী অনুসঙ্গকে আত্মস্থ করতে পারেনি। তার অর্ন্তমুখীন স্বভাবের জন্য। যেমন পুলিশ, মাস্তান, ক্ষমতাবান, ডোমিনেটিং সোসাইটি, প্রভাব বিস্তারকারী মানুষজনের সামনে পড়লে সে ভাষা হারিয়ে ফেলতো। কিন্তু মনে মনে সে ভাবতো অন্যরা তো বেশ মানিয়ে নিয়ে চলছে ফিরছে, সে পারছে না কেন? কেন এসব পরিস্থিতিতে পড়লে তার কথা বলার স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে সে। কেন সে পরিস্কার করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে না, কেন সে মানুষের প্রশ্নের (অযাচিত) পরিস্কার জবাব দিতে পারে না। কেন সে ছোট বেলায় দোষ না করেও মায়ের কড়া ধমকে চুপ করে ছিল, কেন সে স্বামীর অন্যায়েও নিঃশব্দ ছিল, কেন সে পুলিশের নাম শুনলেই অপরাধীর মতো ভয়ে নিজের মধ্যে সেঁধিয়ে পড়তো সে নিজেও জানে না।

সে ভয় পেতো চেনা পরিচিত ঢাকা শহরের এসব কিছু এইই ছিলো সত্য। সেই সত্যটাই তার জীবন নিয়েছে। সেই প্রখর খরতাপের মধ্যে শত শত মানুষের কয়েকজন তাকে নৃশংস ভাবে পেটালো। পিটিয়ে তার সারা শরীর থেঁতলে দিল। শেষ নিঃশ্বাস বের হবার আগে তখনও সে তাকিয়েছিল মানুষগুলোর দিকে। রক্তমাখা মুখ, কপালের মধ্যে রক্তভেজা চুলগুলো ঘামে, রক্তে লেপ্টে আছে, সেই অবস্থায় তাকিয়েছিল মানুষের (মানুষ???!) দিকে। হয়তো শেষ মুহুর্তেও চেষ্টা করছিল গুছিয়ে কিছু বলতে- “ভাইগো ও ভাই, আমি এখানে এসেছিলাম আমার বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করাতে,
আমি ছেলে ধরা না। আমার নাম তাসলিমা রেনু। দুটো বাচ্চা আছে আমার। আমি মরে গেলে ওদের কেউ থাকবে না। এখনো যদি আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান আমি মরবো না। আমি সুস্থ হয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে চাই। বাসায় বাচ্চাগুলো আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে।” কিন্তু বোবার মতো রেনু তাকিয়েই ছিল ঘোরলাগা চোখে।

বিবশ বিহব্বল হয়ে মাটিতে পড়ে যায় রেনু। দুটি হাত চারটি হাত লাঠি হাতে ক্রমাগত পিটিয়ে পিটিয়ে শেষ করে দিলো ---শুধু রেনুর জীবনটা নয়, তার সব স্বপ্ন, তার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত। আমার বোন রেনুর হত্যার ভিডিও টি যারা করেছেন, যারা দেখেছেন, তাদের সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। আপনারা সবাই অনেক গোছানো মানুষ। পরিপাটি ফিটফাট, নিরাপদ। রেনু, বোনটা আমার যদি এর ছিঁটেফোঁটাও স্মার্ট হত!'

অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে অনড় বাগেরহাট মহিলা কলেজ শিক্ষার্থীরা

অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো শনিবার (০২ নভেম্বর) ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করেছেন বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। ...